রপ্তানি খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। বিগত কয়েক দশকে তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীলতা দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। দেশ স্বাধীনের পর পাট শিল্পের ওপর নির্ভরশীল একটি দেশ আজ বিশ্বব্যাপী তৈরি পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে। তবে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের চাহিদা আমাদের রপ্তানি খাতে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে দেশের রপ্তানি খাতের প্রধান বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশুল্ক হার। দেশটির সঙ্গে উচ্চশুল্ক হার নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বাণিজ্যিক দরকষাকষি করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ধার্য করা শুল্ক কমানোই এর মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের জন্য প্রথমে এ হার ছিল ৩৭ শতাংশ, সর্বশেষ ৩৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। হার কমিয়ে আনার জন্য কয়েক দফা আলোচনা হলেও কার্যত এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। আবারও দেন-দরবারের প্রস্তুতি চলছে।
আরও স্পষ্ট করে বললে, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত হচ্ছে, দেশটি অন্য কোনো দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে বাংলাদেশকেও তা অনুসরণ করতে হবে। তার মানে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় পড়া দেশের সঙ্গে বাংলাদেশকে ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা বিনিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার বিষয় যুক্ত থাকতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শুল্ক নিয়ে দরকষাকষির নামে হয়তো এমন সব বিষয় আলোচনা হচ্ছে, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তা, ভূরাজনীতি, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মতো স্পর্শকাতর বিষয় সম্পর্কিত।

















